*স্বরাষ্ট্রম ভারতবর্ষের উত্তিষ্ঠঃ সঙ্ঘের শতবর্ষের আলোকে*
শিক্ষক শংকর পাল এর প্রতিবেদন ধুলিয়ান ,
"যোগস্হ কুরু কর্মাণি"...(2/48 গীতা) এর নিষ্কাম কর্মযজ্ঞের পন্হ কা পথিক রুপে 'নমস্তে সদাবৎসলে..মাতৃভূমে..'এর নিমিত্ত ত্যাগ, তিতিক্ষা ও নিরলস সাধনার মধ্য দিয়ে 2025 সালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ যখন শতবর্ষে পদার্পণ করল , তখন কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা, নাগপুর থেকে গোরক্ষপুর মাতরম্ বন্দনম এর উদ্ঘোষ আত্মবৎ সর্বভূতেষুর মধ্য দিয়ে 'সঙ্ঘ চরণঃ চলঃ রহে বিরাট হিন্দুরাষ্ট্র কে' এর শঙ্খধ্বনি আসমুদ্রহিমাচল সহ বিশ্বের বাতাবরণ কে সাত্তিক দিব্যতার পরশমণি দিল।
সদভাবনা, সংবেদনা ও সামাজিক সমরসতার মধ্য দিয়েই সুন্দর, সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ সহযোগী জীবনের সংকল্প নিয়ে ব্যক্তি নির্মাণ থেকে সমাজ পরিবর্তন ও তার থেকে ব্যবস্থার পরিবর্তন এ সঙ্ঘের যোগদান ও অবদান অনস্বীকার্য। মন,বচন ও কর্ম দ্বারাই সমগ্র ও একাত্ম দৃষ্টিতে সুদৃঢ় ও সংগঠিত সমাজ গঠন ই শুধু নয়, আবশ্যক হলে "শাস্ত্রেণ রক্ষিতে রাষ্ট্র, শাস্ত্র চিন্তা প্রবর্ততে " কে ধারণ করে সমগ্র হিন্দুদের হিতসাধনের জন্য সনাতন সংস্কৃতির পুনরুদ্ধার ও জাগরণে "খুন রগঃ মে হিন্দু হে" এর অঙ্গীকার সদা সাকার করে আসছে সঙ্ঘ।
অখণ্ড ভারতবর্ষের একতা,বিবিধতা ও বিশিষ্টতার বিচারধারা নিয়ে 'পরমবৈভমএতুম স্বরাষ্ট্রম ' এর জন্য দেশজুড়ে 70000 শাখা ও 1লক্ষ 30 হাজার সেবা প্রকল্প নিরন্তর বহমান। কিন্ত 'কণ্টকাকীর্ণ মার্গম ' পেরিয়ে আসতে কত শত বলিদান দিতে হয়েছে স্বয়ংসেবকেদের দেশহিতে।1989 এ সঙ্ঘের শাখাতে সন্ত্রাসবাদী হামলাতে 18জন শহীদ হয়েছিলেন। 1992 এর 6 ডিসেম্বর করসেবকরা বলিদানের ভয় না করে রামলালার মন্দির উদ্ধারের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন। 2004 এর সুনামি থেকে 2020 এর কোভিড সংকটে ও সেবাভাব দিয়েছেন। 2024 এ রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই পূর্ণতা শতবর্ষের সাধনার।
ইতিহাসের পাতা উল্টানো গেলে ও দেখা যায় 1947 এর পর পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আগত হিন্দু শরণার্থীদের জন্য 3000 শিবির করেছিলেন। 1962 এর চিন যুদ্ধে স্বয়ংসেবকরা তৎকালীন সরকার কে সহায়তা করেছিলেন। 1984 এর সময়ে ও শিখ পরিবার থেকে স্বর্ণমন্দির করসেবকদের আশ্রয় দিয়েছিল সঙ্ঘ পরিবার।
সেবা ও সমর্পণ এর ভাব নিয়ে সঙ্ঘের শতবর্ষ উদযাপন সম্প্রীতি, পরিবেশ রক্ষা,পারিবারিক মূল্যবোধ ও আত্মনির্ভরতার উন্মেষ কে প্রাসঙ্গিক দিক ও দিশা প্রদান করছে ভারতবর্ষ কে জগৎগুরু এর আসনে অধিষ্ঠিত করতে।
শংকর পাল, শিক্ষক ও গীতা গবেষক।
Comments
Post a Comment