শুভ কল্যাণ বিশ্বাস, স্বচ্ছ বার্তা - শুভ ভাইফোঁটা উপলক্ষে পলাশীপাড়া বিধানসভায় গণ ভাইফোঁটার আসর বসিয়েছিলো বিজেপি। গণ ভাইফোঁটা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বার্ণিয়া বাজারে উজ্জ্বল ঘোষ চৌধুরী বাড়িতে। কেন কি কারনে বসিয়েছিলো এই ভাইফোঁটার আসর, কি তার উদ্দেশ্য ছিল বিজেপির,সে বিষয়ে কিছুই জানা যায় নি।
তবে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হতেই এই ভাইফোঁটার আয়োজন করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও রাজ্য বিজেপির অফিসে অনেক বছর ধরেই এই ভাই ফোঁটার আসর হয়ে আসছে । কিন্ত পলাশীপাড়া বিধানসভায় এই প্রথম এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা এই মুহূর্তে এই বিধানসভার বিজেপির মুখ সংগীতা ঘোষ। তিনি বিজেপির কার্যকর্তাদের ভাইফোঁটা দিয়েছেন বিজেপি কার্যকর্তার বাড়িতে আসর বসিয়ে। এখন দেখে নেওয়া যাক,
ভাইফোঁটার পৌরাণিক কাহিনী বা ইতিহাস কি বলছে, ভাইফোঁটা বা ভ্রাতৃদ্বিতীয়া হলো হিন্দুদের দ্বারা পালিত একটি উৎসব। এটি কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে উদযাপিত হয়।পশ্চিম ভারতে এই উৎসব ভাইদুজ নামেও পরিচিত। সেখানে ভ্রাতৃদ্বিতীয়া পাঁচ-দিনব্যাপী দীপাবলি উৎসবের শেষদিন। মহারাষ্ট্র, গোয়া ও কর্ণাটকে ভাইফোঁটাকে ভাইবিজ বলা হয়। নেপালে ও পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলে ভাইটিকা এবং অনেক জায়গায় যমদ্বিতীয়া নামেও পরিচিত।
ভাইফোঁটার সঙ্গে জুড়ে রয়েছে যম-যমুনার গল্প। রয়েছে লক্ষ্মী-নারায়ণের আখ্যানও।
বিষ্ণু নিজের শিষ্য বালিকে বর দিতে গিয়ে নিজেই তাঁর কাছে একবার বন্দি হয়ে পড়লেন। এদিকে নারায়ণ ছাড়া গোটা ব্রহ্মাণ্ড অচল। দুঃখিনী হয়ে উঠলেন স্বয়ং লক্ষ্মীও। তাই, নারায়ণকে উদ্ধার করতে বালিকে ভাই পাতালেন লক্ষ্মী। তাঁকে ফোঁটা দিলেন কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়াতে। আর উপহার হিসেবে ভাইয়ের কাছে ফেরত চাইলেন স্বামী নারায়ণকে। সেই থেকে পালিত হয়ে আসছে ভাইফোঁটা।
ভাইফোঁটার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কৃষ্ণ-সুভদ্রার আখ্যানও। শাস্ত্র মতে, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে নরকাসুরকে বধ করেছিলেন কৃষ্ণ। এরপর তিনি দ্বারকায় ফিরে এলে তাঁর কপালে বিজয় তিলক এঁকে দিয়ে মিষ্টি খেতে দেন সুভদ্রা। সেই থেকেই ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে ভাইফোঁটা উৎসবের সূচনা হয়।
আরেক কাহিনি অনুসারে, সূর্যদেবের রয়েছে এক সন্তান ও এক কন্যা। বিমাতার অত্যাচারে সেই সন্তান যমুনা ও যমের ছেলেবেলায় বিচ্ছেদ ঘটে। বিয়ের পর যমুনা স্বামীর বাড়ি গেলেন। যম হঠাৎই একদিন দিদির বাড়ি চলে আসেন। ভাইকে পেয়ে যমুনাও ভীষণ খুশি। দিদির আতিথেয়তা পেয়ে ভাই ভীষণ খুশি হয়ে বর চাইতে বলল। সেই দিনটিকে যমুনা ভাতৃদ্বিতীয়া হিসেবে পালন করার কথা জানায়। সেদিন থেকেই দিনটি ভাতৃদ্বিতীয়া হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
আজকের এই ভাইফোঁটার অনুষ্ঠানে
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণনগর রাজ পরিবারের সদস্যা রানী মা অমৃতা রায়, নাকাশিপাড়া পঞ্চায়েত সমিতি বিরোধী দলনেতা ও শিক্ষক অনুপ কুমার মন্ডল, যুবনেতা বিশ্বজিৎ সরকার, বিজেপির বর্ষিয়ান নেতৃত্ব মহিতোষ ভৌমিক, হিরণ্ময় দত্ত, রেবতী মজুমদার, নিতীশ ভক্ত, প্রকাশ মন্ডল , বুথ সভাপতি সহ একাধিক নেতৃত্ব।
আজকের এই ভাই ফোটার আসরের বিশেষ অতিথি, গত লোকসভা ভোটে কৃষ্ণনগর লোকসভার বিজেপির প্রার্থী অমৃতা রায় বলেন, ভাইফোঁটা হল প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে ভাইদের মঙ্গল কামনায় যমের দুয়ারে কাটা দেওয়ার প্রথা। যে সমস্ত বিজেপির বর্ষিয়ন কার্যকর্তারা আছেন তাদের সুদীর্ঘ আয়ু কামনায় আজকের এই ভাই ফোটার আসর। সংগীতা ঘোষ ও মহিতোষ ভৌমিক এর উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি।
Comments
Post a Comment